জমি-জমা সংক্রান্ত

স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ: নতুন আইন ও ডিজিটাল সেবায় স্বস্তি

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার ২০২৩ সালে দুটি যুগান্তকারী আইন প্রণয়ন করেছে। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ এবং ‘ভূমি সংস্কার আইন’ পাসের মাধ্যমে জমি দখল, জালিয়াতি এবং বর্গা চাষের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর আইনি সমাধানের পথ প্রশস্ত হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল ভূমি সেবার প্রসারে এখন ঘরে বসেই নামজারি ও খতিয়ান সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

ভূমি অপরাধে কঠোর শাস্তি ও দ্রুত প্রতিকার

নতুন কার্যকর হওয়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, এখন থেকে অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করা, ভুয়া দলিল তৈরি করা বা দলিলে তথ্য গোপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের অধীনে জেলা প্রশাসক ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে ভূমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়। এখন থেকে বায়না দলিল, খতিয়ান বা আমমোক্তারনামা জালিয়াতি করলে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ভূমি সংস্কার ও বর্গা চাষের নতুন নিয়ম

ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, এখন থেকে লিখিত বর্গাচুক্তি ছাড়া কোনো জমি বর্গা দেওয়া যাবে না। মালিক ও বর্গাদারের মধ্যে ফসল ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা ৩ মাসের মধ্যে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকলেও, আপিল আদালতের রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া নিয়ম ভঙ্গ করে জমি চাষ করলে উৎপাদিত ফসল সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল সেবা: ই-নামজারি ও ই-খতিয়ান

জমি কেনা-বেচা বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি বা মিউটেশন এখন সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক। ২০১৫ সালের সংশোধিত ফি ও প্রক্রিয়ায় বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করা যাচ্ছে। জমির মালিকানার মূল দলিল হিসেবে পরিচিত CS, SA, RS এবং BS খতিয়ানের মধ্যে সর্বশেষ জরিপ বা BS (বাংলাদেশ সার্ভে) খতিয়ানই বর্তমানে আদালতে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।

ভূমি উন্নয়ন কর ও স্মার্ট সিস্টেম

ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। বর্তমানে অনলাইন দাখিলা সিস্টেমের মাধ্যমে নাগরিকরা যেকোনো স্থান থেকে কর পরিশোধ করতে পারছেন। কর পরিশোধের রসিদ বা দাখিলা ছাড়া জমি বিক্রি বা নামজারি করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রবর্তিত স্মার্ট ভূমি নকশা, উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর এবং ই-খতিয়ান অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এখন দালালচক্রের প্রভাব ছাড়াই সরাসরি সেবা নিতে পারছেন।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ

সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ করলে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী জমির মালিকদের বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এছাড়া অর্পিত সম্পত্তি ও খাসজমি বন্টনে ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার দিয়ে আইন সংস্কার করা হয়েছে।

সচেতনতা ও সঠিক পরিমাপ

ভূমি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি কেনা বা হস্তান্তরের সময় শতাংশ, কাঠা বা বিঘার হিসাব সঠিকভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। (যেমন: ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট)। ভূমিসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ এখন সরকারের GRS (Grievance Redress System) বা ১৬১২২ কল সেন্টারের মাধ্যমে সরাসরি জানানো যাচ্ছে।

আধুনিক এই আইনি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় বাংলাদেশের ভূমি খাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *