ডায়াবেটিস রোগ ও খাদ্য

ডায়াবেটিসে ঘন ঘন প্রস্রাব: সুগার নিয়ন্ত্রণেই মিলতে পারে স্থায়ী সমাধান

ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে গ্লুকোজ বা সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ ও বারবার প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি পায়। তবে সুগার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত রক্তের সুগার পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করা। খালি পেটে ও খাবারের পর রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে রোগের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয়।

চিকিৎসকরা আরও বলেন, অনেক রোগী প্রস্রাব বেশি হওয়ার কারণে পানি পান কমিয়ে দেন, যা একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এতে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কিডনির ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা প্রয়োজন। তবে রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থাকলে ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে পানি পানের পরিমাণ কিছুটা কমানো যেতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। মিষ্টি জাতীয় খাবার, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ওটস, লাল চালের ভাতসহ আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে এবং সুগার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণেও সংযমের পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ ক্যাফেইনের ডাইইউরেটিক (Diuretic) প্রভাব শরীর থেকে পানি বের হওয়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে, যা ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি ঘন ঘন প্রস্রাবের পাশাপাশি প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা, জ্বর, দুর্গন্ধ বা প্রস্রাবের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে তা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) বা অন্য কোনো জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় তাদের মধ্যে প্রস্রাবের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঘন ঘন প্রস্রাবসহ ডায়াবেটিসের বিভিন্ন অস্বস্তিকর উপসর্গও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *