গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে আরএসএস-এর উদ্যোগ: ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২য় কিস্তির সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ ও প্রশিক্ষণ খাতের অর্থ স্থানান্তর
দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অধিদপ্তরের অন্যতম সফল কর্মসূচি পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম (আরএসএস)-এর আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ক্ষুদ্রঋণ, মনিহারি ও প্রশিক্ষণ খাতের ২য় কিস্তির অর্থ মাঠপর্যায়ে সফলভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সাধারণত প্রতি অর্থ বছরে ৪টি কিস্তিতে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। ২য় কিস্তির এই অর্থ ছাড়ের ফলে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের কর্মক্ষম অথচ পুঁজিহীন মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নে গতি
এই কর্মসূচির নীতি অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি প্রতিটি উপজেলার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO)-কে সভাপতি এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে গঠিত ১৬ সদস্য বিশিষ্ট “পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন কমিটি (ইউপিআইসি)” অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে এই সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া তদারকি করে থাকেন।
(বি:দ্র: আপনার নির্দিষ্ট উপজেলার সঠিক বরাদ্দের পরিমাণ জানতে স্থানীয় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড বা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।)
সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ: অবহেলিত এক নীরব বিপ্লব
বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের নাম শুনলেই যেখানে চড়া সুদের কথা মাথায় আসে, সেখানে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত (০% সুদ) এই ঋণ গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ। ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় মাত্র ১৯টি থানায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই আরএসএস কার্যক্রম আজ দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিস্তৃত। এটিই বাংলাদেশের সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ।
পরিবার প্রতি যোগ্যতা ও স্কিমের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা (ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি) পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়। এই ঋণের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—ঋণগ্রহীতাদের কোনো সুদ দিতে হয় না, যা তাদের ঋণের ফাঁদ থেকে মুক্ত রেখে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে।
প্রচারের অভাব: দেশের কতজন জানে এই সুদমুক্ত ঋণের কথা?
বাস্তব চিত্র হলো, বাংলাদেশে এখনো একটি বিশাল জনগোষ্ঠী সরকারের এই দারুণ উদ্যোগের কথা জানে না। এনজিও বা অন্যান্য সংস্থার চড়া সুদের ঋণের ভিড়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রমটি প্রচারের অভাবে আড়ালে রয়ে গেছে। গ্রামে বসবাসরত ‘ক’ শ্রেণি (ভূমিহীন ও দরিদ্রতম) এবং ‘খ’ শ্রেণির (দরিদ্র) মানুষজন এই ঋণের প্রকৃত অংশীদার।
তথ্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সরকারি সুবিধাটি সম্পর্কে প্রান্তিক মানুষের সচেতনতা মাত্র ৩০-৪০ শতাংশের কাছাকাছি। প্রচার বাড়লে মানুষ চড়া সুদের ফাঁদ থেকে রক্ষা পেয়ে সরকারি সহায়তায় নিজেদের ভাগ্যবদল করতে সক্ষম হবে।
প্রশিক্ষণ ও মনিহারি খাতে বিশেষ জোর
কেবল ঋণ দেওয়াই শেষ কথা নয়, ঋণের সঠিক ব্যবহারের জন্য এই বরাদ্দে প্রশিক্ষণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দলভুক্ত সদস্যদের বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজ যেমন—হাঁস-মুরগি পালন, গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ, কুটির শিল্প ও দর্জি বিজ্ঞানের ওপর বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই সাথে দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মনিহারি খাতের অর্থও এই কিস্তিতে ছাড় করা হয়েছে।
সচেতনতা বাড়াতে আপনার একটি ‘শেয়ার’ অত্যন্ত জরুরি
আপনার এলাকায় অনেক অসহায় মানুষ আছেন, যারা হয়তো একটু পুঁজির অভাবে কোনো ব্যবসা বা কাজ শুরু করতে পারছেন না। সরকারের এই ২য় কিস্তির বরাদ্দের খবরটি এবং সুদমুক্ত ঋণের তথ্যটি আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে হয়তো কোনো একটি দরিদ্র পরিবার সঠিক সময়ে সঠিক দপ্তরে (উপজেলা সমাজসেবা অফিস) যোগাযোগের সুযোগ পাবে। আপনার একটি তথ্যমূলক শেয়ার একটি পরিবারের স্বাবলম্বী হওয়ার উসিলা হতে পারে।
ঋণ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

