ইন্টারনেট দুনিয়া

১ জানুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে NEIR: সচল থাকা সব হ্যান্ডসেট সয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আগামী ০১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো দেশে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ করা এবং মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পুরনো হ্যান্ডসেট নিয়ে চিন্তার কারণ নেই

বিটিআরসি জানিয়েছে, ০১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের পূর্বে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন সকল হ্যান্ডসেট—সেটি বৈধ হোক, অবৈধ হোক কিংবা ডাটাবেজে না থাকুক—সবগুলোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। ফলে বর্তমান ব্যবহারকারীদের হ্যান্ডসেট বন্ধ হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই এবং সেগুলো নেটওয়ার্কে সচল থাকবে।

নতুন হ্যান্ডসেট কেনার আগে সতর্কতা

নতুন বা ব্যবহৃত হ্যান্ডসেট কেনার ক্ষেত্রে বিটিআরসি গ্রাহকদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কেনার আগেই হ্যান্ডসেটটির বৈধতা যাচাই করা জরুরি। বৈধতা যাচাইয়ের পদ্ধতিটি নিচে দেওয়া হলো:

  1. IMEI নম্বর সংগ্রহ: ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *#06# ডায়াল করে ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি জেনে নিন।

  2. মেসেজ পাঠানো: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: KYD<space>১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর (যেমন: KYD 123456789012345)।

  3. সেন্ড করুন: মেসেজটি পাঠিয়ে দিন ১৬০০২ নম্বরে।

  4. ফিরতি মেসেজে আপনি হ্যান্ডসেটটির বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।

তথ্য ও সহায়তার জন্য যোগাযোগ

NEIR সংক্রান্ত যেকোনো বিভ্রান্তি বা জিজ্ঞাসার জন্য বিটিআরসি কয়েকটি হেল্পলাইন চালু রেখেছে:

  • বিটিআরসি হেল্পডেস্ক: ১০০ নম্বরে কল করুন।

  • সরাসরি কোড: যেকোনো অপারেটর থেকে *16161# ডায়াল করুন।

  • অপারেটর সেবা: সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার নম্বর ১২১-এ কল করুন।

  • অনলাইন পোর্টাল: বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন neir.btrc.gov.bd

অবৈধভাবে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেট কেনা থেকে বিরত থাকতে এবং সরকারি এই উদ্যোগ সফল করতে বিটিআরসি জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে।

আইএমই নম্বর কি?

IMEI এর পূর্ণরূপ হলো International Mobile Equipment Identity। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি নিজস্ব পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর

নিচে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয়তাগুলো তুলে ধরা হলো:

১. এটি কী?

  • এটি সাধারণত ১৫ ডিজিটের একটি অনন্য নম্বর।

  • বিশ্বের প্রতিটি আসল মোবাইল ফোনের জন্য একটি আলাদা IMEI নম্বর থাকে। দুটি ফোনের IMEI কখনো এক হয় না।

  • যদি আপনার ফোনে দুটি সিম কার্ড ব্যবহারের সুবিধা থাকে (Dual SIM), তবে আপনার ফোনের দুটি আলাদা IMEI নম্বর থাকবে।

২. কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

  • চুরি হওয়া ফোন খুঁজে পেতে: ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে থানায় জিডি করার জন্য এই নম্বরটি অবশ্যই লাগে। পুলিশ এই নম্বরের মাধ্যমেই ফোনটি ট্র্যাক করতে পারে।

  • ফোন ব্লক করা: ফোন চুরি হয়ে গেলে আপনি মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে ওই IMEI নম্বরটি ব্লক করে দিতে পারেন। এতে চোর ওই ফোনে অন্য কোনো সিম ব্যবহার করতে পারবে না।

  • বৈধতা যাচাই: আপনার ফোনটি আসল নাকি নকল, কিংবা সেটি বৈধ পথে দেশে এসেছে কিনা—তা এই নম্বর দিয়ে যাচাই করা যায় (যেমনটি বিটিআরসি-র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে)।

৩. কীভাবে নিজের ফোনের IMEI নম্বর জানবেন?

আপনার ফোনের IMEI নম্বরটি জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো:

  • ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *#06# টাইপ করুন। সাথে সাথেই স্ক্রিনে নম্বরটি ভেসে উঠবে।

  • এছাড়া ফোনের বক্সে বা ফোনের ব্যাটারির নিচে (যদি খোলা যায়) এই নম্বরটি লেখা থাকে।

  • ফোনের Settings > About Phone > Status অপশনে গেলেও এটি খুঁজে পাওয়া যায়।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *