২০২৬-২৭ করবর্ষে আয়কর হারে বড় পরিবর্তন: জানুন আপনার করমুক্ত আয়ের সীমা কত
আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন করবর্ষের জন্য আয়করের হারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। ২০২৫ সালের অর্থ অধ্যাদেশের ধারা ১৩৬ অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের জন্য করের নতুন ধাপ ও হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মে সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি বিশেষ সুবিধা পাবেন নারী, প্রবীণ নাগরিক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা।
করের ধাপ ও হার (সাধারণ করদাতা):
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বার্ষিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে করের হার পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। আয়ের সীমা ও নির্ধারিত করের হার নিচে দেওয়া হলো:
| আয়ের স্তর | করের হার |
| প্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত | ০% (করমুক্ত) |
| পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকার ওপর | ১০% |
| পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকার ওপর | ১৫% |
| পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকার ওপর | ২০% |
| পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকার ওপর | ২৫% |
| অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর | ৩০% |
করমুক্ত আয়ের বিশেষ সীমা:
সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হলেও, নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির জন্য এই সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে:
নারী ও ৬৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ: নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য ৪,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত থাকবে।
তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী: তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য এই সীমা ৫,০০,০০০ টাকা।
জুলাই যোদ্ধা ও গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা: গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত “জুলাই যোদ্ধা”দের জন্য ৫,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনো কর দিতে হবে না।
প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবক: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবক তাদের প্রতিটি প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা করমুক্ত সুবিধার সুবিধা পাবেন।
ন্যূনতম করের বিধান:
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যদি কোনো করদাতার আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তবে তাকে ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা কর প্রদান করতে হবে। তবে নতুন করদাতাদের ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে এই হার শিথিল করা হয়েছে; তাদের জন্য প্রথমবার ন্যূনতম করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১,০০০ টাকা।
বিশেষ নির্দেশনা:
অত্র অধ্যাদেশে উল্লিখিত নিয়মাবলি বাংলাদেশে অবস্থানরত অনিবাসী (অনিবাসী বাংলাদেশি ব্যতীত) করদাতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, প্রতিবন্ধী করদাতা হিসেবে সুবিধা পেতে হলে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ এর অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে।
নতুন এই কর কাঠামো ২০২৬ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হবে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

