জমি-জমা সংক্রান্ত

জমির শ্রেণী: প্রকারভেদ ও গুরুত্ব – জেনে নিন আপনার জমি কোন শ্রেণীতে পড়ে!

জমির মালিকানা এবং এর ব্যবহারিক দিক বোঝার জন্য জমির শ্রেণী জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহু কাজে, বিশেষত ভূমি জরিপ, দলিল প্রস্তুত এবং খাজনা নির্ধারণের সময় জমির শ্রেণী উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়। অথচ সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা প্রায়শই অনুপস্থিত। জমির শ্রেণীর ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ হয় খাজনার পরিমাণ—কিছু শ্রেণীর জমির খাজনা বেশি, আবার কিছুর কম।

ভূমি সংক্রান্ত এই মৌলিক ধারণাটি সবার জন্য অপরিহার্য। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে জমির শ্রেণীকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

১. ভিটি (ভিটা) শ্রেণীর জমি

ভিটি বা ভিটা হলো বসত বাড়ির জমি। সাধারণত যেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে মানুষ বসবাস করে, সেই জমির শ্রেণীকে ভিটি বলা হয়। জমি হস্তান্তরের সময় দলিলে কিংবা ভূমি জরিপের সময় পর্চায় এই শ্রেণীর নাম লেখা হয় ‘ভিটি’।

২. নাল শ্রেণীর জমি

নাল শ্রেণীভুক্ত জমি হলো তুলনামূলক উঁচু প্রকৃতির আবাদযোগ্য ফসলী জমি। এই সকল জমিতে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হওয়ায় বছরে ২ থেকে ৩ বার পর্যন্ত সফলভাবে ফসল ফলানো সম্ভব হয়।

৩. বাইদ শ্রেণীর জমি

বাইদ হলো নিচু প্রকৃতির আবাদযোগ্য ফসলী জমি। এই ধরনের জমিতে বর্ষাকালে জল জমার প্রবণতা বেশি থাকে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ-এর মতো মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বহু এলাকায় এই শব্দটি বহুল প্রচলিত।

৪. সিকস্তি শ্রেণীর জমি

সিকস্তি শ্রেণী বলতে সেই সকল জমিকে বোঝানো হয়, যা নদী ভাঙ্গনের ফলে বিলীন হয়ে গেছে বা খাস জমিতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, যে জমি জল বা নদীর গ্রাসে হারিয়ে যায়, তাকে সিকস্তি বলা হয়।

৫. পরস্থী শ্রেণীর জমি

পরস্থী হলো সিকস্তি শ্রেণীর সম্পূর্ণ বিপরীত। নদী বা অন্য জলাশয়ে বিলীন হওয়ার পর যখন আবার নতুন করে চর জেগে ওঠে, সেই চর এলাকার জমিগুলোকে পরস্থী শ্রেণীর জমি বলা হয়।


জমির শ্রেণী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

একটি এলাকার সব জমি কখনোই এক কাজে ব্যবহৃত হয় না। জমি তার ব্যবহার অনুসারে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত হয়। যেমন:

  • কৃষি: আবাদযোগ্য ফসলী জমি (নাল, বাইদ)।

  • আবাসিক/বাড়ি: বসত ভিটা (ভিটি)।

  • বাণিজ্যিক: দোকান, বাজার ইত্যাদি।

  • ধর্মীয়/সামাজিক: কবরস্থান, মন্দির, মসজিদ, ঈদগাহ, শ্মশান ইত্যাদি।

  • জলাশয়: পুকুর, খাল, বিল, নদী ইত্যাদি।

  • পরিবহন: রেললাইন, রাস্তা, হালট (ক্ষেতে যাওয়ার পথ) ইত্যাদি।

  • অন্যান্য: পতিত জমি বা জঙ্গল।

ভূমির প্রতিটি খতিয়ানে জমির দাগের পাশে তার শ্রেণী উল্লেখ করা থাকে। এই শ্রেণী দেখেই বোঝা যায় জমিটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বা এর প্রকৃত প্রকৃতি কী। ভূমি জরিপ এবং হস্তান্তরের জন্য দলিলে এই শ্রেণী উল্লেখ করা যেমন আইনি বাধ্যবাধকতা, তেমনি জমির খাজনা বা কর নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এই শ্রেণী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বসতভিটা বা বাণিজ্যিক জমির খাজনা সাধারণত কৃষি জমির চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

সুতরাং, প্রত্যেক ভূমি মালিকের উচিত তার জমির সঠিক শ্রেণীটি জেনে রাখা, যা তাকে আইনি জটিলতা এড়িয়ে চলতে এবং জমির ব্যবহারিক গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *