দলিল কী ও বিভিন্ন প্রকার দলিলের আলোচনা

দলিল কী ও দলিলের প্রকারভেদ- দলিল একটি জমির মালিকানা নির্ধারণ করে। শুধুমাত্র জমির ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য অনেক বিষয়েও সাধারণত দলিল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আজকে আমরা দলিল ও দলিলের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করবো।

সূচীপত্রঃ

  1. দলিল কী
  2. দলিলের মৌলিক অংশ
  3. বিভিন্ন প্রকার দলিল

দলিল কী

দলিল হচ্ছে যে কোনো চুক্তির লিখিত ও আইনগ্রাহ্য রূপ। সাধারণত সম্পদের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য দলিল সম্পাদন করা হয়। যার হাতের লেখা সুন্দর বা কম্পিউটারে টাইপ করে দলিল তৈরী করা উচিত। এতে দলিলে ভুল ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

দলিলের মৌলিক অংশ

দলিলে সাধারণত পাঁচটি মৌলিক অংশ থাকে। যথাঃ

১. সম্পত্তির বর্ণনা

২. দাতার পরিচয়

৩. গ্রহীতার পরিচয়

৪. সাক্ষীদের পরিচয়

৫. দলিল সম্পাদনের তারিখ

দলিলের প্রকারভেদ

বাংলাদেশে ভূমি আইন অনুযায়ী জমির দলিল মোট ৯ প্রকার। যথাঃ

১) সাব কবলা দলিলঃ ক্রয় বিক্রয় করার ক্ষেত্রে যে দলিল সম্পন্ন হয় তাকে সাব কবলা দলিল বলে। সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- পরিশোধিত বা আংশিক পরিশোধিত এবং আংশিক পরিশোধ করিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আর্থিক মূল্যের বিনিময়ে কোন সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করতে যে দলিল করা হয় তাকে কবলা দলিল বলে।

২) দানপত্র দলিল: সম্পত্তি দান করার জন্য যে দলিল করা হয় তাকে দানপত্র দলিল বলে। যে দলিলের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এবং পণ ব্যতীত কোন সম্পত্তি অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করেন এবং দান গ্রহীতা বা তার পক্ষে অন্য কেউ উক্ত সম্পত্তি গ্রহণ করেন তাকে দানপত্র দলিল বলে।

৩) হেবা দলিলঃ মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দানপত্র দলিল। এ দলিল কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়, কেবল সন্তুষ্ট হয়ে এ রকম দান করা হয়। কিন্তু এ হেবা শর্তবিহীন অবস্থায় দান বিক্রয়, কট রেহান ও রূপান্তর ইত্যাদি সব ক্ষমতা প্রদানে দান বা হেবা করতে হবে। স্বত্ব সম্পর্কে দাতার কোনোরকম দাবি থাকলে সে দান বা হেবা শুদ্ধ হবে না এবং তা যে কোনো সময় বাতিলযোগ্য। এ রকম দানপত্রে দাতার কোনো স্বার্থ সংরক্ষিত থাকবে না।

৪) হেবা-বিল-এওয়াজ দলিলঃ প্রতীকী কোন বস্তুর বিনিময়ে কোন সম্পত্তি দান করা হয় যে দলিলের মাধ্যমে তাকে হেবা-বিল-এওয়াজ দলিল বলে। প্রতীকি বস্তু যেমন- ধর্মীয় গ্রন্থ, জায়নামাজ, তসবিহ ইত্যাদি।

৫) এওয়াজ বা বিনিময় দলিলঃ এই দলিল যে দুটি বা ততধিক পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত হয়, তাতে জিনিসের পরিবর্তে অন্য জিনিসের মালিকানা পরিবর্তন হয়। যে দলিলের মাধ্যমে এক পক্ষের কোন জিনিসের মালিকানার পরিবর্তে অপর পক্ষের কোন জিনিসের মালিকানা হস্তান্তর হয় তাকে এওয়াজ বা বিনিময় দলিল বলে।

৬) বণ্টননামা দলিলঃ সম্পত্তির অংশীদারগণ সম্পত্তি পৃথকভাবে ভাগ করে নেওয়ার জন্য এ ধরণের দলিল করে থাকেন। যে দলিলের মাধ্যমে কোন সম্পত্তির অংশীদারগণ বা শরিকগণ নিজেদের মধ্যে উক্ত সম্পত্তি পৃথকভাবে ভাগ বা বণ্টন করে নেন তাকে বণ্টননামা দলিল বলে। একই সম্পত্তিতে মালিক হয়েছেন এ রকম একই বংশের লোককে সাধারণত শরিক বলা হয়। বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে কিন্তু ঘরোয়াভাবে বণ্টন করে সব পক্ষ যদি বণ্টননামা দলিলে দস্তখত করে থাকেন তাহলেও বণ্টন নামা কার্যকর হতে পারে। যদি শরিকরা আপসমতে বণ্টন করতে রাজি না হন তাহলে যে কোনো শরিক বণ্টনের জন্য আদালতে নালিশ করতে পারেন।

৭) অসিয়তনামা দলিলঃ কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি কাউকে বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অসিয়তকারী ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সবাইকে না দিয়ে যদি একজনকে বা কোনো তৃতীয় ব্যক্তিকে প্রদান করে থাকেন এবং অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর যদি তার উত্তরাধিকারীরা দাবি উত্থাপন করেন তাহলে যাকে সম্পত্তি অসিয়ত করা হলো সেই ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পাবেন এবং অবশিষ্ট দুই তৃতীয়াংশের মালিক উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সবাই হবেন।

৮) উইল দলিলঃ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক তাদের নিজস্ব সম্পত্তি তাদের আত্মীয়দের মধ্যে যাকে ইচ্ছা উইল করে দিতে পারেন। যিনি উইল করলেন তিনি জীবদ্দশায় একের অধিক উইল করতে পারেন। কিন্তু সর্বশেষ যে উইল করলেন কেবল সেটাই কার্যকর হবে।

৯) না-দাবি দলিলঃ কোনো ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট কোনো সম্পত্তিতে তার স্বত্বাধিকার নেই মর্মে অথবা স্বত্বাধিকার ত্যাগ করেছেন মর্মে দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দিতে পারেন। এ রকম দলিলকে না-দাবি দলিল বলা হয়।

আশা করি দলিল ও দলিলের প্রকার সম্পর্কে আপনাদের কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরেছি। আরো কিছু জানার থাকলে কমেন্টস করে জেনে নিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *