পটুয়াখালী ঐতিহাসিক ভ্রমণের দর্শনীয় স্থান এবং ঐতিহাসিক ভ্রমণের দর্শনীয় স্থান গুলো কি কি?

পটুয়াখালী  ভ্রমণের কিছু দর্শনীয় স্থান  গুলো সম্পর্কে জেনে নেই

১. কুয়াকাটা রাখাইনপল্লী‌ পটুয়াখালী 

কুয়াকাটা একটি উপজেলা যা রাখাইনপল্লী জেলায় অবস্থিত। রাখাইনপল্লী জেলা  বাংলাদেশের পটুয়াখালী বিভাগের অন্তর্গত অবস্থিত। এটি নদীর তীরে অবস্থিত একটি উপজেলা হিসাবে পরিচিত। রাখাইনপল্লী জেলা পটুয়াখালী সদর উপজেলার একটি অংশ এবং উপজেলা পরিষদের অধীনে কাজ করে।

কুয়াকাটা রাখাইনপল্লী পটুয়াখালী জেলার একটি আকর্ষণীয় স্থান। এখানে আপনি বৃষ্টির জলে তৈরি করা খুব সুন্দর প্রাকৃতিক ঝর্ণার মধ্যে ভ্রমণ করতে পারেন। যাত্রা সময়ে আপনি পার্কিং থেকে একটি সার্ভিস পান্থা ব্যবহার করে ঝর্ণার দিকে যেতে পারেন। যেখানে আপনি সুন্দর পরিবেশে স্থানীয় খাবার খাওয়া এবং মনোরম পরিবেশে আনন্দ পাবেন।

২. পায়রা সমুদ্রবন্দর পটুয়াখালী

পায়রা সমুদ্রবন্দর পটুয়াখালী জেলার একটি মহানগরী এবং এটি বাংলাদেশের নদী মাতলা নদীর উপরে অবস্থিত। পটুয়াখালী জেলার মধ্যে অবস্থিত এই সমুদ্রবন্দরটি দক্ষিণ বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রপথের একটি মান হিসেবে পরিচিত।

পায়রা সমুদ্রবন্দর পটুয়াখালী জেলার পায়রা উপজেলার একটি অংশ। এটি পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সমুদ্রবন্দরটি পটুয়াখালী শহর থেকে সমুদ্রের দিকে পথবিশিষ্ট এলাকায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রপথ কলকাতা সমুদ্রপথের পাশাপাশি অবস্থিত হলেও এর অবস্থানটি পটুয়াখালী জেলার সাম্প্রতিক শহরগুলি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রায় ৬০০ হে অবস্থিত থাকে।

৩. কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত 

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার লতাচাপলি ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত। কুয়াকাটা ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত।কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এর বিশেষত্ব হচ্ছে আপনি একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সড়কপথে দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার। আর বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে আরও যে দর্শনীয় স্থান রয়েছে শুঁটকি পল্লী, ক্রাব আইল্যান্ড, গঙ্গামতির জঙ্গল, ফাতরার বন, কুয়াকাটা কুয়া, সীমা বৌদ্ধ মন্দি, কেরানিপাড়া।

৪. কানাই বলাই দিঘী পটুয়াখালী 

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী কানাই বলাই দিঘী অবস্থিত। স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির অভাব পূরণের জন্য এই দিঘীটি খনন করা হয়েছিল। কানাই বলাই দীঘির আনুমানিক দৈর্ঘ্য ২০০ মিটার ও প্রস্থ ১৪০ মিটার। প্রায় তিনশত বছরের প্রাচীন দিঘীকে নিয়ে নানা ধরণের লোককথা জড়িয়ে আছে। কথিত আছে, প্রায় শত বছর আগে কাছিপাড়া গ্রামে কানাই বলাই নামের হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুই ভাই থাকতো। একদিন এই দুই ভাই খেজুর গাছের বাঁকল ভেবে বিশাল আকৃতির দুটি গজাল মাছের উপর বসেছিল। পরবর্তীতে মাছগুলো দুই ভাইকে গভীর জলে নিয়ে যায়। এরপর আর কোনদিন দুই ভাইয়ের দেখা মিলেনি। এই ঘটনার পর থেকে দীঘিটি কানাই বলাই দিঘী হিসেবে পরিচিতি পায়। আবার অনেকের মতে, ভালো মন ও সৎ উদ্দেশ্যে এই দীঘির কাছে কিছু চাইলে তা পূরণ হয় এবং কেউ যদি কানাই বলাই দিঘীকে ভক্তি না করে কিংবা কটূক্তি করে তাহলে তার বিপদ আসে। স্থানীয়দের মতে, কানাই বালাই দিঘীর পানিতে মন বাসনা পূরণ করার এক আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে।

৫. লেবুর চর পটুয়াখালী 

পটুয়াখালী জেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বে লেবুর চর অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে লেবুর চর নেম্বুর চর হিসেবেও পরিচিত। ১০০০ একর আয়তনের লেবুর চরে কেওড়া, গেওয়া, গোরান, কড়ই, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে। অতীতে এটি সুন্দরবনের অংশ হিসাবে থাকলেও বর্তমানে এই চর সুন্দরবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

লেবুর চরের শেষ প্রান্তে দাঁড়ালে সুন্দরবনের সবুজ গাছের সারি দেখা যায়। সূর্যাস্তের সময় বিস্তীর্ণ চরে আছড়ে পড়া সূর্যের সোনালি আভা চারপাশে এক মনোমুগ্ধকর অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণ করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত লেবুর চর পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীর স্থান হিসেবে পরিচিত।

৬. সোনারচর পটুয়াখালী 

পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত নয়ানাভিরাম একটি সমুদ্র সৈকতের নাম সোনারচর। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে সোনারচরের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। সাগরের মাঝে অবস্থিত সোনারচর দ্বীপের দুর্গম ও বিপদসঙ্কুল যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন সৌন্দর্য পাগল পর্যটকদের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে। তাই অনেকেই প্রকৃতির রূপ দেখতে ছুটে যান সোনারচরে। চঞ্চল সাগরের ঢেউ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ এবং জীববৈচিত্রপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পর্যটকদের মোহিত করে আপন মহিমায়।

পটুয়াখালী জেলায় আগত বেশির ভাগ পর্যটকই কুয়াকাটা দেখেই ফিরে যান। তাই পর্যটকের চাপহীন থাকে সোনারচরের সমুদ্র সৈকত ও বনাঞ্চল। সোনারচর সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। কুয়াকাটার মত সোনাচর দ্বীপের একই স্থান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্থ উপভোগ করা যায়। দিগন্ত বিস্তৃত সাগরের নীল জলরাশি ঘেরা সোনারচর সমূদ্র সৈকতে বালিতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে যেন সোনার মতই মনে হয়। প্রায় ৫ হাজার একরের বিশাল বনভূমি রয়েছে এই সোনারচরে। যা আয়তনের দিক থেকে সুন্দরবনের পরের স্থান দখল করে নিয়েছে। আর এই বনাঞ্চলের রয়েছে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র। সোনারচরের বনাঞ্চলে পর্যটকদের জন্য ডাকবাংলো ও বন বিভাগের ক্যাম্প রয়েছে। ২০০৪ সালে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা সোনার চরে পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগ বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি বিভিন্ন বন্য প্রাণী ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার সোনারচরকে বন্যপ্রাণীর অভয়রণ্য হিসাবে ঘোষণা করে।

৭. মজিদবাড়িয়া মসজিদ পটুয়াখালী

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম নিদর্শন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ। সাড়ে ৫শ বছর পূর্বে সুলতানী শাসনামলে স্থাপিত এ শাহী মসজিদটি, যা আজও স্মরণ করিয়ে দেয় মুসলিম স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের কথা। আর এ মসজিদের নামানুসারে এলাকার নাম হয়েছে মসজিদবাড়িয়া। পরে মজিদ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদবাড়িয়ার পরিবর্তে ইউনিয়নের নাম মজিদবাড়িয়া করেন বলে জানা যায়।

৮. মজিদবাড়িয়া মসজিদ পটুয়াখালী

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম নিদর্শন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ। সাড়ে ৫শ বছর পূর্বে সুলতানী শাসনামলে স্থাপিত এ শাহী মসজিদটি, যা আজও স্মরণ করিয়ে দেয় মুসলিম স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের কথা। আর এ মসজিদের নামানুসারে এলাকার নাম হয়েছে মসজিদবাড়িয়া। পরে মজিদ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদবাড়িয়ার পরিবর্তে ইউনিয়নের নাম মজিদবাড়িয়া করেন বলে জানা যায়।

মসজিদে তিনটি দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য খচিত মেহরাব, পূর্বদিকে তিনটি খিলান পথ এবং ৬টি আটকোনার মিনারসদৃশ পিলার রয়েছে। একটি বারান্দাযুক্ত মসজিদটির পূর্ব উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দুটি করে জানালা রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে দরজা জানালার কপাট ও পিলারগুলোর অস্তিত্ব ধ্বংসের শেষ পর্যায় পৌঁছেছে। বিশাল একটি গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি কোনো রড-সিমেন্ট ছাড়াই চুনা-সুরকি ও পোড়ামাটির ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৭৫ইঞ্চি পুরো। আর মসজিদের ভিতরদিকে রয়েছে নানান কারুকার্য খচিত মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের প্রাচীনতম নিদর্শন। যা চোখে না দেখলে এর অকৃত্রিম সৌন্দর্য বোঝা সত্যিই অসম্ভব।

পটুয়াখালী জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

১. পায়রা সমুদ্রবন্দর ২. পানি জাদুঘর ৩.কালাইয়া প্রাচীন মন্দির ৪. ক্রাব আইল্যান্ড ৫. ফাতরার বন ৬. শুঁটকি পল্লী ৭. কুয়াকাটার কুয়া ৮. দয়াময়ী দেবী মন্দির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *