ফ্যামিলি কার্ডে কড়াকড়ি ২০২৬ । কার্ড সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির মানুষ
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় টিসিবির পণ্যসহ বিভিন্ন ভুর্তকি মূল্যের সুবিধা প্রদানকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে নতুন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কার্ডের প্রকৃত দাবিদারদের চিহ্নিত করতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ছয়টি বিশেষ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে যেকোনো একটির আওতায় পড়লে সেই পরিবার আর ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না।
কারা বাদ পড়ছেন এই তালিকা থেকে?
তথ্যাদি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূলত সচ্ছল এবং রাষ্ট্রীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগীদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত শ্রেণিগুলো হলো:
পেনশনভোগী পরিবার: যদি কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত পেনশন গ্রহণ করেন, তবে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না।
এসি ব্যবহারকারী: জীবনযাত্রার মান বিচারে যাদের বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি (Air Conditioner) রয়েছে, তাদের উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত হিসেবে গণ্য করে এই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিলাসবহুল সম্পদের মালিক: নিজস্ব গাড়ি বা এই জাতীয় বিলাসবহুল সম্পদ রয়েছে এমন ব্যক্তিরা কার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
সরকারি চাকরিজীবী: পরিবারের কোনো সদস্য যদি সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকেন, তবে সেই পরিবারকে স্বাবলম্বী হিসেবে ধরা হবে।
বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী: কোনো ব্যক্তির নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স থাকলে তিনি ক্ষুদ্র বা মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন, যার ফলে তিনি ভুর্তকি সুবিধার বাইরে থাকবেন।
বড় ব্যবসায়ী: যাদের বড় ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল, তারা এই বিশেষ কার্ডের সুবিধা পাবেন না।
এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা
কর্তৃপক্ষের মতে, সামাজিক নিরাপত্তার বাজেট যাতে অপচয় না হয় এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষ—যাদের জন্য এই পণ্য সহায়তা একান্ত প্রয়োজন—তারা যেন বঞ্চিত না হন, সেজন্যই এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া। ইতিপূর্বে কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব এবং সচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড পাওয়ার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যমান কার্ডধারীদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে যাচাই করা হচ্ছে। যদি কোনো কার্ডধারী উপরোক্ত ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তাদের কার্ড বাতিল করে নতুন করে যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম। এটি মূলত সমাজের আয়বৈষম্য কমিয়ে আনার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।

