ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র : নমিনির নামে অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনে ভোগান্তি, ক্ষমতা ফেরত চায় ডাক অধিদপ্তর
অটোমেশনের পর কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মূল আমানতকারীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত উত্তরসূরি বা নমিনির নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করতে গিয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে ডাক অধিদপ্তরকে পুনরায় নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ডাক-২ শাখা থেকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবের উদ্দেশ্যে প্রেরিত এক সরকারি স্মারকপত্রে এই তথ্য জানা গেছে। সিনিয়র সহকারী সচিব সুমন্ত ব্যানার্জি স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।
সংকটের সূত্রপাত ও গ্রাহক ভোগান্তি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনা হয়। তবে অটোমেশনের পর থেকেই এর সফটওয়্যার সিস্টেমে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবা পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে কোনো আমানতকারীর মৃত্যুর পর। মৃত গ্রাহকের নমিনির নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন বা স্থানান্তরের জন্য গ্রাহকদের আবেদনের পর তা যথাসময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।
সঞ্চয় অধিদপ্তরের জনবল সংকট ও স্থবিরতা
স্মারকপত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে একটি নির্দেশনার মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম এককভাবে ‘সঞ্চয় অধিদপ্তর’-এর মাধ্যমে পরিচালনার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশনা জারির পর মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত আবেদন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সঞ্চয় অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।
তবে সঞ্চয় অধিদপ্তর তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। জনবল সংকটের কারণে তারা এই বিশাল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এমনকি তারা মৌখিকভাবেও তাদের এই অক্ষমতার কথা ডাক বিভাগকে অবহিত করেছে। এর ফলে একদিকে সঞ্চয় অধিদপ্তর কাজ সম্পন্ন করতে পারছে না, অন্যদিকে ডাক অধিদপ্তর ক্ষমতা না থাকায় গ্রাহকদের ফাইল আটকে রেখেছে। দুই দপ্তরের এই টানাপোড়েনে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সমাধানের পথ: ক্ষমতা পুনঃপ্রদানের দাবি
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উদ্ভূত বিলম্বজনিত সংকটকালীন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ এবং গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘব করা জরুরি। আর এ কারণেই স্থগিত থাকা ‘নিষ্পত্তির ক্ষমতা’ পুনরায় ডাক অধিদপ্তরকে প্রদান করা প্রয়োজন বলে মনে করছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ডাক অধিদপ্তর এই ক্ষমতা ফিরে পেলে স্থানীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়েই দ্রুততম সময়ে নমিনির অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের প্রত্যাশা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে এবং মৃত সঞ্চয়াকারীদের পরিবার সহজে তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাবেন।

