মিসেস ফারজানা খানমের গৃহ-সম্পত্তি আয়ের কর নিরূপণ: বাড়িওয়ালাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী গৃহ-সম্পত্তি হতে অর্জিত আয়ের হিসাব এবং কর প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি মিসেস ফারজানা খানম নামক একজন করদাতার গৃহ-সম্পত্তি হতে আয়ের একটি বিস্তারিত হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সঠিক নিয়মে খরচ অনুমোদন এবং ব্যাংক লেনদেনের বিধান পরিপালন না করলে করদাতাদের বড় অংকের জরিমানার সম্মুখীন হতে হতে পারে।
মিসেস ফারজানার আয়ের ব্যবচ্ছেদ
মিসেস ফারজানা খানমের মালিকানাধীন বাড়ির একাংশ (১/৩ অংশ) তিনি নিজে ব্যবহার করেন এবং বাকি ২/৩ অংশ ভাড়া দিয়েছেন। তার বার্ষিক ভাড়ামূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪,৪০,০০০ টাকা। আয়কর আইন অনুযায়ী, এই আয় থেকে তিনি নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদনযোগ্য খরচ বাদ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন:
মেরামত ব্যয়: ভাড়ামূল্যের ২৫% হিসেবে ৩,৬০,০০০ টাকা।
পৌর কর ও ভূমি রাজস্ব: ভাড়াকৃত অংশের (২/৩) আনুপাতিক হারে যথাক্রমে ১৬,০০০ ও ৬০০ টাকা।
ঋণের সুদ: গৃহ নির্মাণ ঋণের সুদের ভাড়াকৃত অংশের আনুপাতিক ২০,০০০ টাকা।
সব মিলিয়ে মোট ৩,৯৬,৬০০ টাকা খরচ বাদ দেওয়ার পর তার গৃহ-সম্পত্তি হতে নীট করযোগ্য আয় দাঁড়িয়েছে ১০,৪৩,৪০০ টাকা।
অগ্রিম ও নিরাপত্তা জামানত: যা জানা প্রয়োজন
মিসেস ফারজানা ভাড়ার বাইরেও অগ্রিম এবং নিরাপত্তা জামানত বাবদ বড় অংকের অর্থ গ্রহণ করেছেন। হিসাব অনুযায়ী, তার মোট অসমন্বয়কৃত অগ্রিম ও জামানতের পরিমাণ ৩১,২০,০০০ টাকা। আয়কর বিধান অনুযায়ী, এই বিশাল অংকটি তার মোট করযোগ্য আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না, বরং এটি তার আয়কর রিটার্নের পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে (IT-10B) ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক দায়’ হিসেবে প্রদর্শিত হবে।
করের হিসাব
মিসেস ফারজানার ১০,৪৩,৪০০ টাকা আয়ের বিপরীতে বর্তমান করহার অনুযায়ী প্রদেয় করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬,৫১০ টাকা। আয়ের স্লাব অনুযায়ী প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পর অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৫%, ১০% এবং ১৫% হারে এই কর নিরূপণ করা হয়েছে।
ব্যাংক লেনদেনে অবহেলায় হতে পারে বড় জরিমানা
আয়কর আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভাড়া গ্রহণ। আইন অনুযায়ী:
যদি কোনো বাড়ির মালিক এক বা একাধিক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মাসে সর্বমোট ২৫ হাজার টাকার বেশি ভাড়া পান, তবে সেই টাকা অবশ্যই ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
মিসেস ফারজানার ক্ষেত্রে মাসিক ভাড়া ৬০,০০০ টাকা হওয়ায় এই বিধানটি তার জন্য বাধ্যতামূলক। যদি কোনো করদাতা এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে তার গৃহ-সম্পত্তি হতে অর্জিত আয়ের ওপর প্রদেয় আয়করের ৫০% অথবা ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা হিসেবে আরোপিত হতে পারে।
অর্থাৎ, মিসেস ফারজানা যদি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার না করতেন, তবে তাকে মূল কর ৬৬,৫১০ টাকার পাশাপাশি আরও প্রায় ৩৩,২৫৫ টাকা জরিমানা গুনতে হতো। তাই ঝামেলামুক্ত থাকতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে সকল বাড়িওয়ালাকে ব্যাংকিং চ্যানেলে ভাড়া আদায়ের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

