রুক্ষ চুলের যত্ন ২০২৩ । কীভাবে নিবেন আপনার চুলের যত্ন?

চুল পড়া অনেক এর জন্যই একটি বিরক্তিকর পরিস্থিতি । দিনে ৫০-১০০ টি চুল হারানো স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়। তবে আপনার চুল পড়ার পরিমাণ যদি এর বেশি হয় তবে না আশংকাজনক । চুল পড়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন জেনেটিক্স, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, চুলের অনুপযুক্ত যত্ন। তবে বেশ কিছু সমাধান রয়েছে যা আপনার চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ এবং চুলের বৃদ্ধিকে তরান্বিত করতে পারে। এখানে আমরা এমন কিছু কার্যকরী উপায় নিয়ে কথা বলবো।

মাথার ত্বকে ম্যাসেজ-

মাথার ত্বকে ম্যাসাজ রক্ত ​​সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং চুলের বৃদ্ধিকে তরান্বিত করার একটি সহজ এবং কার্যকরী উপায়। হালকা চাপ প্রয়োগ করে প্রায় 10 মিনিটের জন্য আপনার মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসেজ করুন। আপনি আপনার মাথার ত্বক ম্যাসাজ করার জন্য হেয়ারব্রাশ বা হেয়ার রোলারও ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার মাথার ত্বকে রক্তের প্রবাহ বাড়াবে এবং আপনার চুলের গোড়া মজবুত করবে।

 

সঠিক চুলের যত্ন-

চুল পড়ার কারণগুলির মধ্যে একটি হল চুলের সঠিক যত্ন সম্পর্কে না জানা। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে আপনি চুলের জন্য সঠিক হেয়ার কেয়ার পণ্য ব্যবহার করছেন কিনা। ক্ষতিকর রাসায়নিক এর ব্যহার করা হয় এমন হেয়ার কেয়ার পণ্য বর্জন করতে হবে। স্ট্রেইটনার এবং ব্লো ড্রায়ারের মতো হট স্টাইলিং সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি আপনার চুলের ক্ষতি করে এবং চুলের গোড়া দূর্বল করে। এই সব এর পরিবর্তে আপনার চুলকে বাতাসে শুকাতে দিন। এছাড়াও, আঁটসাঁট চুলের স্টাইল যেমন বিনুনি, পনিটেল এবং বান এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো আপনার চুলের উপর চাপ সৃষ্টি করে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা-

স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্য খাদ্য তালিকা অপরিহার্য। নিশ্চিত করুন যে আপনি যথেষ্ট পরিমাণের ভিটামিন এবং খনিজ পাচ্ছেন বিশেষ করে ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, বি এবং আয়রন। ডিম, পালংশাক, বাদাম এর মতো খাবার এই পুষ্টি উপাদান এর চমৎকার উৎস। এছাড়াও আপনার মাথার ত্বক ভালো রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখুন-

দুশ্চিন্তা আপনার চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং ব্যায়ামের মতো কার্যকলাপের মাধ্যমে আপনার জীবনে চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।

ডাক্তার এর পরামর্শে ঔষধ ব্যবহার করুন-

যদি আপনার চুল পড়া কোনো চিকিৎসার কারণে হয়ে থাকে তাহলে আপনার ডাক্তার চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে এবং চুলের বৃদ্ধি তরান্বিত করার জন্য ওষুধ লিখে দিতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ, মিনোক্সিডিল একটি ওষুধ যা চুলের বৃদ্ধিকে তরান্বিত করতে মাথার ত্বকে প্রয়োগ করা হয়। ফিনাস্টেরাইড হল আরেকটি ওষুধ যা সাধারণত পুরুষদের চুল পড়া নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ গ্রহণ করবেন না।

হট অয়েল ম্যাসেজ-

 চুলের পরিপূর্ণ পুষ্টি যোগাতে অয়েল মাসাজের বিকল্প নেই। আজকাল কোকোনাট অয়েল ছাড়াও বাজারে আমলা অয়েল, আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায়। চাইলে এগুলো একসাথে মিক্স করেও চুলে লাগাতে পারেন।

চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন-

প্রতিদিন গোসল অথবা চুল ধোঁয়ার পর চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে চুল হয় মসৃন ফলে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়।

চুল পড়া অনেক এরই জন্য একটি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা, তবে এমন বেশ কয়েকটি সমাধান রয়েছে যা চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। মাথার ত্বক ম্যাসাজ, সঠিক চুলের যত্ন, একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ওষুধ, হেয়ার সাপ্লিমেন্ট হল সবচেয়ে কার্যকর কিছু সমাধান। আপনার চুল পড়ার কারণ নির্ধারণ করতে এবং আপনার জন্য কার্যকরী চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করতে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন৷ সঠিক যত্নে আপনি আবার সুস্থ, শক্তিশালী এবং ঘন চুল ফিরে পেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *