ডায়াবেটিস রোগ ও খাদ্য

ডায়াবেটিসের ‘লাল সংকেত’ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: সুস্থ থাকতে যে ১০টি নিয়ম মানতেই হবে

আমরা অনেকেই ডায়াবেটিস নিয়ে প্রতিনিয়ত সচেতনতা অবলম্বন করি। কিন্তু ডায়াবেটিস হওয়ার ঠিক আগের ধাপটি নিয়ে আমাদের ভাবনার যেন শেষ নেই, অথচ এই বিষয়ে আমরা অনেকেই অজ্ঞাত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডায়াবেটিসের এই পূর্ববর্তী অবস্থাকে বলা হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin Resistance)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স শুধু ডায়াবেটিসের দিকেই ঠেলে দেয় না, বরং এটি শরীরে আরও নানা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের জন্ম দেয়।

শরীরের এই নীরব ঘাতককে রুখে দিতে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ১০টি জরুরি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দূর করার ১০টি মহৌষধ

১. অতিরিক্ত চিনিকে ‘না’ বলুন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দূর করার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো খাবারের তালিকা থেকে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার আজই বাদ দেওয়া। চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, যা ইনসুলিনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

২. প্রতি বেলা খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রতিদিনের প্রধান খাবারগুলোতে (সকাল, দুপুর ও রাত) অন্তত ২০ থেকে ৩০ গ্রাম প্রোটিন রাখার চেষ্টা করুন। প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

৩. আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড ও বারবার স্নাকিং বন্ধ করুন ক্ষুধা পেলেই চিপস, বিস্কুট, চানাচুর বা কোমল পানীয়ের মতো আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। বারবার স্নাকিং করার ফলে শরীরে বারবার ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরণ ঘটে, যা এই রেজিস্ট্যান্সকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

৪. কমপ্লেক্স কার্ব ও ফাইবারের মেলবন্ধন খাবারে রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (যেমন: সাদা চাল বা ময়দা) কমিয়ে কমপ্লেক্স কার্ব (যেমন: লাল চাল, ওটস) রাখুন। অথবা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার ঠিক আগেই ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার খান।

৫. খাওয়ার পর ১০–১৫ মিনিটের হাঁটা ভারী খাবার খাওয়ার পর অলস বসে না থেকে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া (Glucose Spike) রোধ করে।

৬. মাসেল বিল্ডিং বা ওয়েট লিফটিং শুধু কার্ডিও বা সাধারণ হাঁটা নয়, নিয়মিত ওয়েট লিফটিং বা শক্তি বর্ধনকারী ব্যায়াম করা উচিত। এটি শরীরে পেশি বা মাসেল তৈরি করে, যা রক্তে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজের ‘স্টোর হাউজ’ বা জমানো ঘর হিসেবে কাজ করে।

৭. অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ শরীরের বাড়তি ওজন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে শরীরের ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বা ইনসুলিন গ্রহণ করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।

৮. পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম ঘুমের সাথে হরমোনের গভীর সংযোগ রয়েছে। প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা গভীর ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। অপর্যাপ্ত ঘুম ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৯. মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমানো অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা পছন্দের কাজের মাধ্যমে মানসিক চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

১০. খাবার খাওয়ার সঠিক ক্রম (Food Sequencing) খাবার পাতে সাজানো থাকলে যেকোনো একটা দিয়ে শুরু করলেই হলো না! সুস্থ থাকতে খাবার খাওয়ার একটি বিশেষ ক্রম মেনে চলুন। সবার আগে খাদ্য়তালিকার ফাইবার (শাকসবজি বা সালাদ) খাবেন, এরপর প্রোটিন (মাছ, মাংস বা ডিম) এবং সবশেষে কার্বোহাইড্রেট (ভাত বা রুটি) গ্রহণ করুন। এই নিয়মটি রক্তে সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখতে চমৎকার কাজ করে।

বিশেষজ্ঞের মতামতঃ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কোনো স্থায়ী রোগ নয়, বরং এটি একটি সতর্কবার্তা। সঠিক সময়ে খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলে এই ১০টি পরিবর্তন আনতে পারলে ডায়াবেটিসের হাত থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা সম্ভব। আজই সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *