সর্বশেষ নিউজ

মানবদেহে ৩টি হার্ট! অবহেলায় বাড়ছে পায়ের রোগ: ডা. সাকলায়েন রাসেল

সাধারণত আমরা জানি মানুষের হার্ট বা হৃদপিণ্ড একটি, যা বুকের বাম পাশে থাকে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাজ করে, যাকে বলা হয় ‘পেরিফেরাল হার্ট’। সম্প্রতি প্রখ্যাত ভাসকুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেল মানবদেহে এই পেরিফেরাল হার্টের গুরুত্ব এবং এর যত্নে করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

১. বুকের হার্ট বনাম পেরিফেরাল হার্ট

বুকের মাঝে থাকা প্রধান হার্টটি সারাদেহ থেকে দূষিত রক্ত সংগ্রহ করে ফুসফুসে পাঠায় এবং সেখান থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বিশুদ্ধ রক্ত পুনরায় সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে পা থেকে রক্তকে পুনরায় উপরে হার্টে ফিরিয়ে আনা একটি কঠিন কাজ। এই কাজটি সম্পন্ন করতে সাহায্য করে দুই পায়ের কাফ মাসল বা সোলিয়াস (Soleus) পেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একেই ‘পেরিফেরাল হার্ট’ বলা হয়।

২. পেরিফেরাল হার্ট বা ‘সাইনুসয়েড’ কী?

পায়ের কাফ মাসলের ভেতরে বিশেষ কিছু রক্তবাহী নালী থাকে যাদের প্রকৃত নাম ‘সাইনুসয়েড’। আমরা যখন হাঁটি, দৌড়াই বা ব্যায়াম করি, তখন এই মাসলগুলো সংকুচিত হয়। এই সংকোচনের ফলে জমে থাকা রক্ত পাম্প হয়ে দ্রুত উপরের দিকে অর্থাৎ মূল হার্টে ফিরে যায়। এই প্রক্রিয়াই আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন চক্র পূর্ণ করে।

৩. পেরিফেরাল হার্ট দুর্বল হওয়ার লক্ষণ

নিয়মিত শরীরচর্চা বা হাঁটাচলা না করলে এই পেরিফেরাল হার্ট বা কাফ মাসল দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয়:

  • পা ফোলা ও ব্যথা: বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা বসে থাকলে পা ফুলে যায় এবং পায়ে অস্বস্তিকর চাবানি বা কামড়ানি অনুভূত হয়।

  • ভ্যারিকোস ভেইন: পায়ের রক্তনালী বা শিরাগুলো আঁকাবাঁকা হয়ে ফুলে ওঠে, যা দেখতে কালচে বা নীলচে দেখায়।

  • পেশিতে টান: ঘুমের মাঝে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র টান লাগা বা ‘ক্র্যাম্প’ হওয়া।

  • নির্ভরশীলতা: অনেকেই পায়ের অস্বস্তি কমাতে নাতি-পুতি বা পরিবারের সদস্যদের দিয়ে পা টেপাতে বা পাড়াতে বাধ্য হন।

৪. পায়ের হার্ট ভালো রাখার উপায়

ডা. সাকলায়েন রাসেলের পরামর্শ অনুযায়ী, পায়ের এই ‘দ্বিতীয় হার্ট’ সচল রাখতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি:

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের অতিরিক্ত ওজন পায়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, তাই ওজন কমানো অপরিহার্য।

  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকা: একটানা দাঁড়িয়ে কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে বিরতি নিন এবং পা নাড়াচাড়া করুন।

  • পায়ের পাতার ব্যায়াম: বসে থাকা অবস্থায় পায়ের পাতা ওপর-নিচ করা বা গোড়ালি ঘোরানোর মতো সহজ ব্যায়াম করুন।

  • সক্রিয় জীবনযাপন: নিয়মিত হাঁটা বা দৌড়ানো কাফ মাসলকে শক্তিশালী রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।

উপসংহার: শরীরের প্রধান হার্টকে সুস্থ রাখতে যেমন আমরা সচেতন, ঠিক তেমনি পেরিফেরাল হার্ট বা পায়ের মাসলের যত্ন নেওয়া সমান জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা আপনার এই ‘দ্বিতীয় হার্ট’কে সচল রেখে আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী পঙ্গুত্ব বা শিরার রোগ থেকে বাঁচাতে পারে।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *