ভ্যাট ও ট্যাক্স

প্রথমবার রিটার্ন জমায় কড়াকড়ি: সময় পার হতেই নোটিশ পাঠাচ্ছে এনবিআর

দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিশেষ করে যারা কর শনাক্তকরণ নম্বর (TIN) থাকা সত্ত্বেও জীবনে কখনোই আয়কর রিটার্ন জমা দেননি, তাদের চিহ্নিত করতে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের বর্ধিত সময়সীমা গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়ার পর, এখন খেলাপি করদাতাদের ঠিকানায় শীঘ্রই শাস্তিমূলক চিঠি বা আইনি নোটিশ পাঠানো শুরু করছে কর প্রশাসন।

শেষ হয়েছে সময়সীমা, বাড়ছে জরিমানা

সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর রিটার্ন জমার শেষ দিন হলেও, করদাতাদের সুবিধার্থে এনবিআর কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৫-২৬ করবর্ষের ব্যক্তি শ্রেণির রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করেছিল ৩১ মার্চ, ২০২৬। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা প্রথমবার বা নিয়মিত রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা এখন আইনি জটিলতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন।

আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের পর রিটার্ন জমা দিতে হলে করদাতাকে শুধু জরিমানা নয়, বরং প্রতি মাসের জন্য বাড়তি বিলম্ব কর (Interest) গুনতে হবে। একই সাথে রেয়াত বা কর ছাড়ের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন খেলাপি করদাতারা।

ঘরে বসেই বাধ্যতামূলক ‘ই-রিটার্ন’

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, করদাতাদের ভোগান্তি ও হয়রানি কমাতে এবার বেশিরভাগ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে ‘ই-রিটার্ন’ (e-Return) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এনবিআরের অফিশিয়াল পোর্টাল (www.etaxnbr.gov.bd) ব্যবহার করে কোনো প্রকার কাগজপত্র আপলোড ছাড়াই ঘরে বসে মাত্র কয়েক মিনিটে এই রিটার্ন জমা দেওয়া যাচ্ছে। এমনকি বিকাশ, নগদ, রকেট বা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনেই কর পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে।

কেন দিতে হবে রিটার্ন? না দিলে কী হবে?

বর্তমানে দেশে টিআইএন (TIN) ধারীর সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ পার হলেও, নিয়মিত রিটার্ন দেন তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, করযোগ্য আয় থাকুক বা না থাকুক, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে (যেমন: গাড়ি কেনা, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া, সঞ্চয়পত্র ইনভেস্টমেন্ট বা নির্দিষ্ট ব্যবসার লাইসেন্স বহাল রাখতে) রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা PSR (Proof of Submission of Return) বাধ্যতামূলক।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান:

“যারা করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও এবং টিআইএন নিয়ে বছরের পর বছর প্রথমবার রিটার্ন দেওয়া থেকে বিরত আছেন, তাদের ডেটাবেজ যাচাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে জবাব না দিলে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা বা কঠোর আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।”

তাই আইনি জটিলতা ও এনবিআরের নোটিশ থেকে বাঁচতে, যারা এখনও রিটার্ন জমা দেননি, তাদের দ্রুত উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে কিংবা ই-রিটার্ন পোর্টালে গিয়ে বিলম্ব জরিমানাসহ রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কর বিশেষজ্ঞরা।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *